সন্তানকে যেসব কথা কখনোই বলা উচিত নয়

শি’শুর কোমল হৃদয়ের অনুভূতিকে আ’হত ক’রতে পারে অথবা এমন কোনো অতি প্রশংসনীয় বাক্য যা তাকে অহংকারী করে তুলতে পারে তা কখনোই বলা উচিৎ না

সন্তানের আচরণের ধ’রণ অনেকাংশেই নির্ভর করে বাবা-মায়ের আচরণের ওপর। শৈশবে শি’শুর স’ঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়, ঠিক তেমন মা’নসিকতা নিয়েই সে বেড়ে ওঠে। আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান পা’লনের দায়িত্বগুলো মায়েদেরই পা’লন ক’রতে হয়। তবে বাবার আচরণও সন্তানের ওপর প্র’ভাব ফে’লে। তাছাড়া, কিছু প্রকৃতিগত আচরণ বংশগত কারণেই পেয়ে থাকে শি’শুরা।

প্রতিটি শি’শুরই প্রয়োজন যত্ন। তবে তার কোমল হৃদয়ের অনুভূতিকে আ’হত ক’রতে পারে অথবা এমন কোনো অতি প্রশংসনীয় বাক্য যা তাকে অহংকারী করে তুলতে পারে তা কখনোই বলা উচিৎ না। জে’নে নেওয়া যাক সেই কথাগুলো স’ম্পর্কে-

এভাবে নয়, এভাবে করো: নতুন কোনো কিছু শেখার ক্ষেত্রে শি’শুরা একাধিকবার ব্য’র্থ হবেই। কিন্তু আপনি যদি শুরু থেকেই তাদের ব্য’র্থতার মধ্যে বারবার নিজে’র নি’র্দেশনা দিতে থাকেন, তাহলে তাদের অনুভূতি হবে তারা কাজটিতে কোনোভাবেই সক্ষম হবে না।

দিনে দিনে বোকা হচ্ছ: হতে পারে আপনার সন্তান কাউকে সালাম বা শুভেচ্ছা জা’নায়নি, কিন্তু তাই বলে তাকে সামনাসামনি ‘‘দিনে দিনে বোকা হচ্ছ’’ বলে বকা দিলে তা শি’শুকে বিব্রতকর ও অস্ব’স্তি কর অব’স্থায় ফেলবে, কারণ এটা তার জন্য একটা নতুন প’রিস্থিতি। বকাঝকা না করে তাকে প’রিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করুন।

তুমি খুব লাজুক: সাময়িক কোনো কিছুর ওপর ভিত্তি করে ব্য’ক্তিত্বের লেভেল বলাটা সমীচীন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বভাবগতভাবে শি’শু লাজুক প্রকৃতির হোক বা না হোক, এমন ধ’রনের কথা’বার্তা বলা হলে তা শি’শুর জন্য খুবই অস্ব’স্তি কর। বিষয়টি তার অনুভূতির ওপর বিরূপ প্র’ভাব ফে’লে।

কান্নার মতো কিছু হয়নি: শি’শুরা অনেক সময়ই মন খা’রাপ বা তুচ্ছ কারণে কান্নাকাটি করে। আপাতদৃষ্টিতে তার কান্নাকাটির কোনো কারণ নেই বলে মনে হলেও, কান্না থামাতে জো’র করলে শি’শুরা বিব্রত হয়। কান্নাকাটির সময় শি’শুরা ধমক নয় বরং সহানুভূতি প্রত্যাশা করে।

বড় ছেলেরা কাঁদে নাকি: কিশোর বয়সে পা দেওয়ার আগের ছেলে শি’শুদের প্রায় বলা হয়ে থাকে, ‘‘বড় ছেলেরা (অথবা মেয়ে) কাঁদে নাকি?’’ বিষয়টি কিন্তু ক’ঠোর পন্থায় তাদের আবেগ দমনের নি’র্দেশনা। এভাবে বললে তাদের মনে হতে পারে, বড় হয়ে গেলে আবেগের কোনো মূল্য নেই, তারা আবেগ-অনূভুতি শুন্য।

দেখ তুমি কত সুন্দর: “তুমি খুবই সুন্দর, দেখ তুমি কত সুন্দর”, এই ধ’রনের বাক্য শোনার মাধ্যমে মেয়ে শি’শুরা ছোট বয়স থেকেই ভাবতে শেখে পৃথিবী তাদের কাছ থেকে কেমন থাকাটা আশা করে। ফলে তারা কেবলমাত্র নিজেদের সৌন্দর্যের প্রতি বেশি নজর দেওয়া শুরু করে।

অন্যের স’ঙ্গে তুলনা: বাবা-মায়ের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো, ‘‘তুলনা করা’’। আম’রা আমাদের সন্তানকে সবসময় অন্যের স’ঙ্গে তুলনা করে থাকি। ‘‘দেখো, ও কতো নম্বর পেয়েছে আর তুমি কতো পেয়েছো’’; ‘‘ওর আচরণ কতো ভালো আর তোমা’র আচরণ মোটেও ভালো না’’। এসব তুলনামূলক বাক্য সন্তানের মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাব তৈরি করে। সে সবাইকে নিজে’র প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করে।

সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়: প্রায়ই বাচ্চাদের এমন কথা বলা হয়। আ’সলে বিষয়টি অনুচিত। শি’শুকে এমন বার্তা দিলে তারা অনেক সময় না বুঝেই অপরিচিত কোনো মানুষের কথাও মেনে নিতে পারে, যা তার জন্য ক্ষ’তির কারণও হতে পারে।

কর্তৃত্ব খাটানো: আম’রা অনেক সময় সন্তানের ওপর অতিরি’ক্ত কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠি। তার সমস্ত কিছুর সি’দ্ধান্ত বাবা-মা নিয়ে থাকেন। তার মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। তাকে বাধ্য করা হয় আমাদের সি’দ্ধান্তগুলো মেনে নিতে। আম’রা ভাবি, তারা সঠিক সি’দ্ধান্ত নিতে পারবে না। আ’সলে এই ধারণাটি ভুল। কোনো বিষয়ে শি’শুর স’ঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়ে সি’দ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তুমি খুব স্মা’র্ট: “তুমি খুব স্মা’র্ট”- এ জাতীয় প্রশংসা শি’শুকে কোনো কিছু ক’রতে উৎসাহিত করে না বরং নতুন কিছু শেখা থেকে বিরত রাখে। কারণ তারা মনে করে আমি খুব স্মা’র্ট এবং সবই জানি।